সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গত ১০ বছরে ৩২ হাজার নার্স নিয়োগঃ প্রধানমন্ত্রীকে স্বানাপের শুভেচ্ছা নতুন আট হাজার নার্স নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সাদেকের শুভেচ্ছা গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা

হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে বলছি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০
  • ৭৭৯ Time View

করোনা ওয়ার্ড থেকে বলছি,সম্মুখযোদ্বা একজন নার্স- এমনই হেডলাইন দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  নার্সিং অফিসার জনাব শফিউল আলম। নিচে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

বাবার প্রতি ছেলের নির্ভীক ভালোবাসা :- ২৩/৪/২০২০

সেদিন আমার প্রথম নাইট ডিউটি ছিল।রোগী ২/৪ জন যা ছিল দিনেই ছুটি হই গেছে,রাতে তাই আমি রিল্যাক্স।দেশে করোনা তখনো ৩/৪ জনে সীমাবদ্ধ।পিপিই না পরেই বসে আছি।হঠাৎ রাত ১২.০৫ মিনিটে ফোন এল একটা সিরিয়াস রোগী আসতেছে।আমি পিপিই পরার আগেই হাজির।রোগী রেস্টলেস সিভিয়ার রেস্পাইরেটরী ডিস্ট্রেস,আরো নানা সমস্যা।কোন রকম মাস্ক গ্ল্যাভস পরে রোগীকে রিসিভ করলাম। কিন্তু রোগী বেডে এক মিনিট থাকছে না।একবার গেইটে চলে যাচ্ছে একবার আমার রুমে চলে আসতেছে একবার মাটিতে শুই যাচ্ছে।কি করব বুজতেছিনা।ডাঃ কে ফোন দিলাম, বলল উপরে রোগীর পার্টিকে পাঠিয়ে দেন আমি ঔষধ লিখে দিচ্ছি।কিন্তু রোগীটা সারা সন্ধ্যা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে ঘুরে কোথায়ও চিকিৎসা না পেয়ে তার ছেলে একপ্রকার বিরক্ত হয়ে গেছে।হঠাৎ রোগীটা আবার গেটের কাছে চলে গিয়ে পড়ে গেল।কোন রেস্পন্স করছে না।রোগীর ছেলেটা চিল্লাতে ছিল।সেখানে শুধু আমি আর একজন এক্স ফায়ার হুক্কুর হুক্কুর করা দাদু ছাড়া আর কেউ নেই।ডাঃ ছাড়া আমি একা যেতে বা কিছু করতে সাহস পাচ্ছিলাম না।। আমি ভয়ে রোগীকে ধরতেও পারছি না।রোগীর ছেলে আমাকে ভাবার টাইম দেওয়ার আগেই সে আমার গলা চেপে ধরল।আমার বাবার কিছু হলে ডাঃ নার্স কাউকে ছাড়ব না আমি দেখে নিব।আমি একজন ডেন্টিস্ট (বিডিএস)স্টুডেন্ট। আমার আশে পাশে কেউ নেই।সিক্স সেন্স কাজ করছিল না।আমি মনে হয় তখনই জীবনের প্রথম দুনিয়াতে থেকে মৃত্যুকে বা নিজেকে মাটির নিছে আবিস্কার করলাম আর সেই ভয়ে কাপ্তেছি।আমি কি নিয়ে যাচ্ছি কবরে?হায় আল্লাহ এই রোগী যেহতু সাস্পেক্টেড করোনা রোগী তার মানে তার ছেলেও করোনার বাহক।কারন সেই ছেলে কোন মাস্ক,গ্ল্যাভস পরে নি।অত:পর আমি হাত ঝাড়া দিয়ে নিজেকে মুক্ত করলাম।ততক্ষনে দেখি সেই দাদু পুলিশ নিয়ে আসলো।অতঃপর ডাঃ কে ফোন করে সব জানানোর পর উনি এসে ছেলেটাকে মগজ দোলাই দিল।ডাঃ ভাল ছিল।সেইরাতে দুজনে রিস্ক নিয়ে নিলাম।যা আছে কপালে সেবা দিব।রোগীটার আইসিঊ ম্যানেজমেন্ট দরকার ছিল তাই পরের দিন ঢাকায় চলে যায়।পরে ফোন দিয়ে সেই ছেলে অনুতপ্ত হয়ে বলল তার সেদিন মাথা ঠিক ছিল না।সরি বলল, আর তার বাবা করোনা নেগেটিভ। আলহামদুলিল্লাহ ।আসলে তার যায়গায় আমি থাকলে আমিও তাই করতাম।তার বাবার সাথে সে এক বিছানায় ছিল।তার কি আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোন ভয় ছিল না?আমারা তো ফেইসবুকে,খবরে দেখি যে ছেলে মেয়ে মাকে বাবাকে জানাযা দেয় নি করোনার ভয়ে।এখন প্রতিটা রোগীর সাথে হয় তার মা,বাবা,সন্তান বা স্ত্রী আছে হাস্পাতালে।ভালোবাসা মরে যায় নি।বেছে থাকুক বাবা ছেলের ভালোবাসা।

শফিউল আলম
২৩/৪/২০২০
Nursing Officer…  Covid-19 ward

Comilla Medical College  Hospital

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102