বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতির আগেই সরকার টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ২৪ ঘন্টায় কোভিড-১৯ এ মৃত্যু ১৪, আক্রান্ত ১০ হাজার ৯০৬ জন কোভিড-১৯: দেশে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ১৭ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ, দিনাজপুর অধ্যক্ষ তাজমিন আরার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় বাংলাদেশে নার্সেস এসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে নার্সেস এসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটি গঠন? বাংলাদেশে নার্সেস এসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটি গঠন? বাংলাদেশ হেলথ রির্পোটার্স ফোরামের কমিটি গঠন সভাপতি রাশেদ রাব্বি, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল সোহেল জানুয়ারিতে সিটিজেন চার্টার স্থাপনের নির্দেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন এর ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা রক্তবীর

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০
  • ৫৩৪ Time View

👤ক্যাম্পাস এম্বাসাডরঃ মোছাঃ তানজিমা আক্তার।
(ঢাকা নার্সিং কলেজ) |🕑১৪.০৬.২০২০ইং

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা প্রভাবে সীমিত আকারে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রক্তদান কে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণসহ সচেতনাতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রায় ছয় লাখ ইউনিটে স্বেচ্ছায় রক্তদান হয়। এসব দাতার প্রায় ৯০ শতাংশই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
নিরাপদ রক্ত সরবরাহের মূল ভিত্তি হলো-স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবনসংশয়ী সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম।

মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজনে আরো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠনের মতো কাজ করছে ঢাকা নার্সিং কলেজের “সঞ্জীবনী”। ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা নার্সিং কলেজে- আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সভাপতিত্বে ও মমতা বানু সাধারণ সম্পাদক দিসেবে প্রাথমিক ভাবে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি শাদাহাত হোসাইন ও সাধারন সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস। বর্তমানে সংগঠনটির একটি ফেসবুক পেজ এবং মেসেঞ্জার গ্রুপ রয়েছে এবং সেখানে সদস্যা সংখ্যা প্রায় ৩০০+ এর মত।
শুরুর দিকে পরিচিত বন্ধুবান্ধব, কাছের সিনিয়র-জুনিয়রদের ও তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে রক্ত প্রদানের বিষয়টি শেয়ার করে রক্ত সংগ্রহরের কাজটি করা হতো এবং বর্তমানেও এভাবেই এর কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০০+ ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে দান করে মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছে “সঞ্জীবনী”। তবে ক্যাম্প করার সুযোগ না পাওয়ায় মানুষের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় নি। তবে তৈরি করেছে অসংখ্য স্বেচ্ছা রক্তদাতা।

ব্যক্তিগতভাবে “সঞ্জীবনী” অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও নগন্য ও অলাভজনক একটি রক্তদান স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গত প্রায় ২ বছরে জীবনে “সঞ্জীবনী” অসংখ্য মানুষের কাছে
চিরঋনী হয়ে গেছে। এই টগবগে মানুষ গুলো
“সঞ্জীবনীর” কথায় দিনে-রাতে-সময়-অসময়ে যখন বলা হয়েছে
ঠিক তখনি এসে শরীরের রক্ত দিয়ে এসেছে মুমূর্ষ মানূষদের।

বেশিরভাগ রক্তদাতাই কখনোই জিজ্ঞাসা করতোনা কার
জন্য রক্ত, কি রোগী, কি সমস্যা। “সঞ্জীবনীর” উদভ্রান্ত ও শংকিত গলার কন্ঠই তাদেরকে হয়তো বুঝতে সহায়তা করতো যে, বিষয়টা কতটা জরুরী।
সংখ্যায় কত ব্যাগ রক্ত তারা দিয়েছে তার হিসাব
না রাখাও এক ধরনের অপরাধ।
অনেক ছেলেমেয়েরা গভীর রাতে ঘুমকে বর্জন
করে সবার অগোচরে ঝর বৃষ্টির রাতকে উপেক্ষা করে হেটে এসেও রক্ত দিয়েছে মুমূর্ষ
রোগীর জন্য। এমনও অনেক নজির আছে
গভীর রাতে রক্ত দিতে এসে পড়েছে নানা রকম
বিপদে। তারপরও তারা দমেনি। এ যেন এক দেওয়ার
নেশা, এ নেশায় যে একবার ডুবেছে সেই জানে
এর কি স্বাদ। আমি আলাদা আলাদা করে কারো নাম
উল্লেখ করবোনা।
তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করার স্পর্ধা যেন
কোনদিনই আমার না হয়। আমি এমনও লোক
পেয়েছি যারা সেচ্ছায় রক্ত দিতে এসে আমাকে
শর্ত জুড়ে দিয়েছিলো যে, আমি রক্ত দিচ্ছি এটা
যেন কেউ না জানে, এদেরকে আমি কোন
মুখে ধন্যবাদ দেবো? আমার চরম বিশ্বাস এদের
এই সৎ কর্মের পুরস্কার সৃষ্টিকর্তা নিজে হাতে দান
করবেন। অনেকের কাছ থেকে রোগীর
সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনা করে জোর করেও
রক্ত নিয়া হয়েছে, তাদের প্রতি আমার করজোড়ে
ক্ষমাপ্রার্থনা করা ছাড়া আর কিই বা করার আছে। অনেক
রক্তদাতা রক্ত দিয়ে অসুস্থও হয়ে গিয়েছিলেন,
তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার আকুতি- তারা
যেন সারাজীবন সুস্থ থাকে-সুন্দর থাকে-মানুষের
বিপদে এগিয়ে আসার সাম্যর্থ তাদের যেন আরো
বেড়ে যায়। সর্বোপরি সকল রক্তদাতার
জন্য রইলো আমার অশেষ আন্তরিক শুভকামনা।
এছাড়া দেবার মতো অন্য কিছু নেই আমার।

২০১২-২০১৩-২০১৪-২০১৫-২০১৬-২০১৭-২০১৮-
সনে রক্ত দানের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করার
চেষ্টা করা হতো, অনেকটা জোর করে মুমূর্ষ
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হতো…….. আজ কিন্তু
সেদিন নেই। সময় বদলেছে, আমাদের সমাজ
আজ অনেক সচেতন, অনেক লোক আজ
নিজের ব্লাড গ্রুপ জানে, কলেজে কলেজে
প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপ নির্নয় করার জন্য
অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংঘঠন শুভ প্রচেষ্টা
চালাচ্ছে, মানুষ এখন অনেকটাই রক্ত দানে
আগ্রহী, রক্ত দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে
আনন্দ পায়। এটাইতো আমরা চাই। আমি খুব বেশি
আশাবাদী, বর্তমান প্রজন্ম যেভাবে রক্তদানে
উৎসাহী তাতে হয়তো একদিন আমাদের
দেশের কোন মানুষ আর রক্ত শূন্যতায় প্রাণ
হারাবেনা। আমাদের এক ঝাঁক উদ্যমী তরুন-তরুণী আজ
রক্ত দেওয়ার জন্য, অন্যের দুঃখের ভাগ নেওয়ার
জন্য সর্বদা প্রস্তুত, অবশ্যই আমরা হারবোনা।
আমরা জিতবোই। জিততে আমাদের হবেই। আমরা
জয়ের জন্যই জন্মেছি। আবারো সকল
রক্তদাতাকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে
শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বিকার করে
এখানে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন।

বিঃ দ্রঃ
আমার এ লেখায় শব্দ চয়ন জনিত কোন ভুল অথবা
অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে সবাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে
দেখার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইলো।

©আল আমিন খান বাঁধন
শিক্ষার্থী উপদেষ্টা
স্টুডেন্ট’স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (SWO),
৪র্থ বর্ষ (A-10) ব্যাচ
ঢাকা নার্সিং কলেজ,ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102