বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা কক্সবাজারে ৮৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ বিএসএমএমইউ’তে গ্রাজুয়েট নার্সিং শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি অনুষ্ঠিত

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে নার্সের ভূমিকা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩২৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তারিখঃ ০৬ অক্টোবর,২০২০

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯)’র এই সময়ে চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা একত্রে কাজ করেছেন। মিডওয়াইফরাও মায়েদের সাহায্য ও সন্তান জন্মদানে সহায়তা করছেন। নবজাতক শিশুদের পৃথিবীর আলো দেখাতে কার্যকরি অবদান রাখছেন। তাই নার্স ও মিডওয়াইফরা স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এমন অবস্থা বিবেচনা করেই জাতিসংঘের ৭২তম এসেম্বলিতে ২০২০ সালকে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মদ্বীশতবার্ষিকীকে নার্স ও মিডওয়াইফ বর্ষ ঘোষণা করেছে।

এটি শুধুমাত্র ফ্লোরেন্সের প্রতি সম্মান প্রদশর্ন করে না, অবশ্যই নার্স ও মিডওয়াইফদের রোগীদের কল্যাণে কাজের প্রতি স্বীকৃতি।

২০২০ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ক্যাম্পেইন Save Life: Clean Hand সকল স্বাস্থ্য হিরোদের (Health Hero) অর্থাৎ নার্স ও মিডওয়াইফদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। যাতে করে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সংক্রমণ কমানো যায়। নার্সরা স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড, তারা মানসম্মত সেবা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সংক্রমণ কমাতে পারে। স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৫৯ শতাংশ নার্স। সুতরাং তাদের ভূমিকাটা জোরালো। এটা সত্যি যে বেশিরভাগ আইপিসি নিয়ে কাজ করা লোকজন নার্স।

হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইপিসি (infection prevention and control) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের সমন্বয়ে একটা টিম গঠন করতে হবে।

নার্সরা নিম্নোক্তকাজগুলো করতে পারেন, এতে সংক্রমণ অনেকটা কমে যাবে।

১. আইপিসি কার্যক্রম চালুকরণঃ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে কিছু নিবেদিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদের নিয়ে আইপিসি কমিটি গঠন করতে হবে। নার্সদের আইপিসি কার্যক্রমের মূলকেন্দ্রে রাখতে হবে এবং কার্যক্রম জোরদার ও উন্নীতকরণে নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ বেশিরভাগ স্বাস্থ্যসেবা নার্সকেন্দ্রিক এবং তাদের সাথে রোগীদের সাক্ষাৎ বেশি হয়।

২. আইপিসি সংক্রান্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণঃ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সবার জন্য আইপিসি সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। যেহেতু নার্সরা স্বাস্থ্যের প্রতিটি ক্ষেত্র প্রতিফলিত করে সেজন্য আইপিসি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং নিত্য নতুন তথ্য নার্সদের দেয়া প্রয়োজন। নার্সরা অনন্য সহকর্মীদের আইপিসি সংক্রান্ত ট্রেনিং ও শিক্ষা প্রদান করবেন। অনেক দেশে আইপিসি পেশাদারিরা নার্স। আবার অনেক দেশ পোস্ট গ্রাজুয়েশনের কারিকুলামে আইপিসি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আইপিসিতে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য কাজ করছে। নার্সরা রোগীদের হ্যান্ড হাইজিন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শিক্ষা দিতে পারবেন।

৩. হাতের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাঃ নার্সরা সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গুরুত্বারোপ করতে পারেন। যে পাঁচটি মুহূর্তে হাত ধৌত করতে হবে ঐ সব মুহূর্তে তা হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কখন গ্লাভস পড়বে, কখন পড়বে না এজন্য একটি তদারকি টিম গঠন করতে হবে।

৪. বর্জ্য ব্যবস্থপনাঃ চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যেসব বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেসব মেডিকেল বর্জ্যগুলো উৎপাদন স্থলে আলাদা করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন রংয়ের পৃথক পৃথক পাত্র রাখা যাবে। যেমন-
সাধারণ বর্জ্য- কাল
ধারালো বর্জ্য- লাল
ইনফেকশাস বর্জ্য- হলুদ
তরল বর্জ্য- নীল
পুনঃব্যবহার্য- সবুজ
তবে অনুরূপ বর্ণের পাত্র পাওয়া না গেলে বর্জ্যের নাম লেভেলিং করে আলাদা ময়লার পাত্র ব্যবহার করতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, হাসপাতালে উৎপাদিত বর্জ্যের ৮০ শতাংশ সাধারণ বর্জ্য, বাকিগুলো মেডিকেল বর্জ্য। এসব বর্জ্য আলাদা করতে হবে। অধিকাংশ সময় সাধারণ বর্জ্যের সাথে মেডিকেল বর্জ্য মিশে সবগুলো বর্জ্য ইনফেশাস বর্জ্য হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের কোন বর্জ্য কোথায় ফেলবে সে সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

৫. আইপিসি কার্যক্রম তদারকি করাঃ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যে আইপিসি কার্যক্রম চলমান (যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থপনা, হাতের স্বাস্থ্যবিধি, হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যন্য কার্যাদি) ঠিকমত চলছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করা এবং মাসিক মিটিংয়ে আলোকপাত করা।

এটা অনস্বীকার্য যে, যথাযথ আইপিসি কার্যক্রমের শয্যা অনুপাতে জনবলের প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ লাখ নার্সের প্রয়োজন। এজন্য যথাযথ পদক্ষেপ জরুরি। আমরা একটু সচেতন হলে সংক্রমণ কমবে।
লেখক-আইপিসি ডেপুটি ফোকাল পার্সন
নার্সিং কর্মকর্তা, ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার।
এআই//

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102