শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা কক্সবাজারে ৮৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ বিএসএমএমইউ’তে গ্রাজুয়েট নার্সিং শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি অনুষ্ঠিত

**রঙিন সপ্ন মোড়ানো বিএনএমসি **

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪১৩ Time View

👤প্রকাশকঃ মতিউর রহমান |🕘 ১৪.০২.২০২১ইং

বারান্দায় সারিবদ্ধ ফুলগাছের পাশ ঘেঁষেই সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় কলিং বেল চাপতে লাগলো মিম আর তমা। বেশ কয়েকবার বেল চাপার পর দরজা খুলে বেড়িয়ে এলেন নাজমা আন্টি।
“ঝুমুর কোথায় আন্টি?” তমার প্রশ্নের উত্তরে অনেকটা রেগেই বললেন,” শুক্রবার তো!.. নিশ্চয়ই সপ্নের বিএনএমসি ভবনের সামনে।
৪ বছর ধরে এরকমই চলছে। মিম বললো,”তাই বলে….. আজতো ওর জন্মদিন” !
আমরা ভাবলাম আজকে একটু ঘুরতে যাবো,কেক কাটবো। যাহোক আমরাও ওখানে গেলাম, ওখানেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাব।

মিম, তমালিকা আর ঝুমুর বাল্যকালের বান্ধবী। ঝুমুর বিএসসি ইন নার্সিং,মীম ডিপ্লোমা ও তমা মিডওয়াইফারী নার্সিংএ পড়াশোনা করতেছে। ঝুমুরের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ঝুমুরের একবছর পর বাকি দুজনের নার্সিংযাত্রা।

বিএনএমসি ভবনের সামনের রাস্তা দিয়ে পড়ন্ত বিকেলে বাবা-মেয়ের খোশগল্প চলছে। বাবা,তোমার মনে আছে! যেদিন আমাকে বিএসসি ইন নার্সিংএ ভর্তি করতে নিয়ে এসেছিলে,রাস্তায় প্রতিবেশী চাচা বলেছিলেন, কী লাভ ৪ বছর ৬ মাসের লম্বা কোর্সে পড়িয়ে!
তার চেয়ে বরং ৬ মাসের একটা কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেন।অল্প দিনেই ছোটখাটো একটা চাকরি পেয়ে যাবে।

কিন্তু তুমি সেদিন গর্ব করে বলেছিলে,মেয়ে আমার দক্ষ এবং সুযোগ্য নার্স হবে। একদিন সে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে সেবার ছাপ ফেলবে।
বাবা, আমি আজ তোমার সপ্নপূরনের প্রায় দ্বারপ্রান্তে। দুদিন পরেই বিএনএমসি( বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল) এক্সাম।
পাশ করার পরেও আমি কিন্তু সুযোগ পেলেই এখানে আসবো।

আচ্ছা! আচ্ছা! তবে আমিই কী আর সারাজীবন তোকে এভাবে নিয়ে আসবো? অন্যকে তোর দায়িত্বও বুঝিয়ে দিতে পারলেই শান্তি।
অহ! বাবা আবার বিয়ের প্রসঙ্গ, ৫০০ টাকা জরিমানা হবে কিন্তু! হঠাৎ পিছন থেকে মীম আর তমা বললো, জরিমানা তো আমরা তোর উপর করবো পাগলি। আজ আমাদের সাথে কেক কাটবি, খাওয়াবি, ঘুরাঘুরি করবি। কী বলেন আংকেল! হ্যাঁ, সে তো অবশ্যই।তারপর সবাই অনেক সুন্দর কিছু মুহুর্ত কাটানোর পর বাবা- মেয়ের বাসায় ফেরা হল। ঝুমুরের মা আজ ওর সব প্রিয় খাবারগুলো রান্না করেছেন। টেবিলে ওগুলো সাজানো দেখেই জিভে জল এসে গেল ঝুমুরের। কিন্তু ছোটভাই বাবু তার আগেই চেয়ারে বসে একেবারে রেডি। খবরদার বাবু!আমার আগে একটা খাবারেরও স্বাদ নিবি না। যাহোক ভাইবোনের….. দুষ্টুমি পর্ব শেষে, ঝুমুর খাবারের টেবিলে। কিন্তু মনে পড়ে গেল, এই সপ্তাহে ‘স্বপ্ন ব্যাংক’ এ ডোনেশন করেনি। তড়িঘড়ি করে ছুটলো নিজের ঘরের দিকে।

“সপ্ন ব্যাংক” ঝুমুরের বাবার দেয়া একটা মাটির ব্যাংক। চার বছর আগে যখন প্রথমদিন নার্সিং ক্লাস শুরু করে সেদিনই বাবার থেকে উপহার পেয়েছিল ঝুমুর। তারপর থেকে হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে….৪ বছর যাবৎ মাটির ব্যাংকে ডোনেশন করে আসছে ঝুমুর। টেবিলে খাবার খেতে খেতে বললো,বাবা যেদিন বিএনএমসি লাইসেন্সিং পরীক্ষায় পাশ করে রেজিস্টার নার্স হবো সেদিনই আমি আমার “সপ্ন ব্যাংক” ভাঙাবো। হাজার দশেক তো হবেই। সবার আগে তোমাকে একটা নতুন চশমা কিনে দিবো, বিএনএমসির ম্যাম আর কলেজের ম্যাম দের সাথে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করবো, কিছু টাকা দান করবো আর বাসার সবার জন্য কেনাকাটা করবো। কেনাকাটার খবর শুনেই বাবু স্বস্তিবোধ করলো,মনে হচ্ছে এতক্ষণে সে নিজের ভাগেরটা বুঝে পেল। বিষয়টা সবাই আঁচ করতে পেরেই হাসতে লাগলো। আচ্ছা বাবা,একটা টিয়া পাখি কিনলে কেমন হয়! আর টিয়া পাখিকে কী শেখাবো?
একটু ভেবে,আদর্শ স্কুল শিক্ষক হাসনাত সাহেব মেয়েকে উত্তরে বললেন,
আমরা টিয়া পাখিকে বলতে শিখাবো….

সাবাস! সাবাস! বাংলার নার্স।

ওহ! বাবা, সেই হইছে! আমি যখন অসুস্থ অসহায় মানুষকে সেবা দিয়ে বাড়ি ফিরবো,তখন বাংলার মানুষ আমার কাজের স্বীকৃতি না দিলেও আঙিনায় পা ফেলতেই অবুঝ সবুজ টিয়া পাখি আমাকে দেখেই বলে উঠবে….
সাবাস! সাবাস! বাংলার নার্স।

আর আমি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যাব। আবার নতুন দিনের শুরুতোই… একই কথা শুনে… নতুন উদ্যমে সেবাদূত হয়ে ছুটে যাবো জনমানুষের মাঝে।
ঝুমুরের মা মৃদু হেসে বলে উঠলেন, খাবার টেবিলে বসে বাবা-মেয়ে এতো সপ্ন কোথা থেকে খুঁজে পাও! তাড়াতাড়ি খেয়ে শেষ করো ঝামেলা।
পরদিন বিকেলে বাসায় ফেরার পথে একটা পাখির খাঁচা নিয়ে আসলেন হাসনাত সাহেব।

ঝুমুর সেটাকে সযত্নে বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখলো। পরীক্ষা শেষেই টিয়া পাখি আনবে বলে। পরদিন সকালে মা-বাবার আশির্বাদ নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল ঝুমুর আর মীম।পথিমধ্যেই সপ্নকে দুঃসপ্ন করে দিল একটা নোটিশ….
“কাউন্সিল পরীক্ষা স্থগিত ”

নিশ্চুপ নির্বাক ঝুমুরের বুঝতে একটুও সময় লাগল না যে এটা কারিগরীদের কারসাজী। তৎক্ষণাৎ বাস থামিয়ে নেমে পড়লো ঝুমুর।সাথে মিম আর তমাও নামলো। কী করবি ঝুমুর? জানতে চাইল মীম।
তা তো জানি না। আপাতত সপ্নের বিএনএমসি ভবনের সামনেই যাব। তমালিকা অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে বললো, এদিকে কারিগরি…. আর অন্যদিকে FWV অর্থাৎ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকারা ‘মিডওয়াইফ’… সমমান চাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নার্সিং যেন আজ লুটের প্রফেশন হয়ে গেছে। যে যার ইচ্ছেমত অনুপ্রবেশ করে নার্সিংয়ের আত্মমর্যাদাকে লুট করতে ব্যাস্ত। বিএনএমসি ভবনের সামনে তিন বান্ধবী দাঁড়িয়ে ভাবনায় বিভোর। ঝুমুর বলল,মীম ওই গানটার কথা মনে আছে..

“সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের শ্মশান করেছে কে? এহিয়া তোমায় আসামীর মতো জবাব দিতেই হবে ”

এ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক সারা জাগিয়ে ছিল। আজ এই গানটির লাইন ধরেই বলতে চাই,,,,,

“সোনায় মোড়ানো নার্সিং মোদের শ্মশান করেছে কে? কারিগরী তোমায় আসামীর মতো জবাব দিতেই হবে”

ফিরে চল! ঝুমুর সন্ধ্যে হয়ে এলো,তুইও চল তমা। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করি সবাই। পরদিন সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে ডাক আসলো মানববন্ধনের। সকালে বাসা থেকে বেরুবার সময় শূণ্য টিয়া পাখির খাঁচাটি দেখে নিজেকেই খাঁচায় বন্দী করে ফেলতে ইচ্ছে করল ঝুমুরের।

যাই হোক ১০টার আগেই ওরা পৌঁছে গেল প্রেসক্লাবের সামনে। সপ্নভঙ্গের যাতনায় নিশ্চুপ ওরা ঠাঁই দাড়িয়ে আছে কান্ডারীর আহবানের অপেক্ষা। একটু পরই দিক দিক থেকে মিছিলে মিছিলে জনতার ঢল আসতে লাগলো। ঠিক মাঝখানে ওরা দাঁড়িয়ে ছিল। আস্তে আস্তে ঝুৃুমুরদের ঘিরে হাজারও বঞ্চিত জনতার ঢল নামলো।
সবার কন্ঠে অধিকার আদায়ে স্লোগান আর স্লোগান, যেন আকাশে বাতাসে কম্পন তুলে বলতে চায়……”আমরা আমাদের অধিকার চাই….কাপুরুষের মতো শতবছর না বেঁচে…..
বাঁচার মতো একদিন হলেও বাঁচতে চাই”

মুখরিত জনতার মিছিলে রাজপথেই ঝুমুর তার চার বছরের প্রিয় ” সপ্ন ব্যাংক ” ভাঙলো আর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বললো,এই নাও পোস্টার, ব্যানার যে কাজে লাগে লাগাও! নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পেশার মান রাখবই। একতাই শক্তি,একতাই বল।
তারপর..
আমরা করব জয়,আমরা করব জয়
আমরা করব জয় নিশ্চয়
গানটি গাইতে গাইতে মিশে গেল জনতার মিছিলে। যেখানে মুখরিত স্লোগান,

“কারিগরী ও FWV নিপাত যাক
নার্সিং পেশা মুক্তি পাক”

ঝুমুরদের সপ্ন ভঙ্গ হবে না,কোটি প্রাণের প্রত্যাশায় ওরা যেন আলোকবর্তিকা হাতে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলার স্বাস্থ্যখ্যাতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102