রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা কক্সবাজারে ৮৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ বিএসএমএমইউ’তে গ্রাজুয়েট নার্সিং শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত নার্সিং কলেজ সমূহ

বেসিক বিএসসি নার্সিংয়ের ইতিহাস- চৌধুরী হায়দার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৭০৭ Time View
{"source_sid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593327289915","subsource":"done_button","uid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593327289895","source":"other","origin":"gallery"}

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসিক বিএসসি নার্সিং এর ইতিহাস অনেকেরই অজানা। আসুন জেনে আসি অতীত ইতিহাস।

বেসিক বিএসসি নার্সিং এর এডুকেশন নিয়ে অনেকেই অনেক রকম কথা বলে ‌ কোমলমতি বেসিক বিএসসিদের বিভ্রান্ত করছেন। আমি একজন বেসিক বিএসসি ফার্স্ট ব্যাচের স্টুডেন্ট হিসেবে প্রকৃত সত্য ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশের বেসিক বিএসসি শিক্ষা কার্যক্রম মূলত শুরু হয় ১৯৭৭ সালে কলেজ অফ নার্সিং, মহাখালীতে। কিন্তু কোর্স চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় নানা রকম ষড়যন্ত্র।

তখনকার কয়েকজন নার্স এই কোর্সটি বন্ধ করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। এমনকি তাদের একটি গ্রুপ বেসিক বিএসসি কোর্স বন্ধ করার জন্য কলেজ অফ নার্সিং ঘেরাও পর্যন্ত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন দিতে গড়িমসি করে। শিক্ষার্থীরা তখন আন্দোলন শুরু করেন। পরে অবশ্য তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হন। সেখান থেকে পাশ করার পর কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী কলেজ অব নার্সিং এ টিচার পদে চাকুরী লাভ করেন। কিন্তু এদিকে বেসিক বিএসসি কোর্স বন্ধ করার জন্য আবার আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে সরকার বাধ্য হয়ে বেসিক বিএসসি কোর্স পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ অব নার্সিং এ বেসিক বিএসসি কোর্স পুরোপুরি বন্ধ হওয়াতে সেখান থেকে উত্তীর্ণ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভোগেন। কিন্তু তারা দেশে এবং বিদেশে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকরি করতে থাকেন।

এরপর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তে কোটি কোটি কিউসেক পানি গড়িয়েছে। ১৯৮২ সাল ২০০২ সাল পর্যন্ত দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক-সামাজিক অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বেসিক বিএসসি বলে একটা কোর্স আছে এই কথা নার্সিং সমাজ ভুলেই গেছেন। বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা একপ্রান্তে রয়ে গেছে। যদিও পার্শ্ববর্তী দেশ সহ অন্যান্য দেশে বেসিক বিএসসি কোর্স অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে।

কিন্তু দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যারা চিন্তা করেন, ভাবেন তারা এই প্রয়োজনটা উপলব্ধি করেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উদ্যোক্তারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে থাকেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাবএইড গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অন্যান্য বিষয় যেমন বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজি এর সাথে বিএসসি নার্সিং চার বছর কোর্স চালু করেন। আমরা বেশ কয়েকজন তখন এই কোর্সে ভর্তি হই।

তখন বিএসসি নার্সিং বেসিক কেউ চিনত না। অনেক কষ্টে আমরা মানুষকে বোঝাতাম। এমনকি কোন হাসপাতাল আমাদেরকে প্লেসমেন্টের সুযোগ দিতে চায়নি। কারণ তারাও এই কোর্সটি সম্পর্কে অবগত ছিলনা। পরে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদেরকে প্র্যাকটিক্যাল এর সুযোগ দেয়।

আমাদের কোন কারিকুলাম সরকার দিতে পারেনি।
ইউনিভার্সিটি তখন অস্ট্রেলিয়া সহ কয়েকটি দেশের কারিকুলাম কে সমন্বয় করে আমাদেরকে পড়ানো শুরু করে। সেখানে কিন্তু Geriatric Nursing ও ছিল। চার মাসে এক সেমিস্টার। কিন্তু এই পোস্টটিকে বন্ধ করার জন্য আবারো নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু হতে থাকে।
ইতিমধ্যেই আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি চার বছরের কোর্স চালু হয়। উল্লেখ্য যে, ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের জন্য আজ পর্যন্ত কোন কলেজ ওই সময় ছিল না এখনো নেই।

সম্ভবত ২০০৫ সালের শেষের দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে এই মর্মে যে, কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোন বিষয়ের কোর্স চালু করতে পারবে না। এই ধরনের কৌশল করতে হলে অবশ্যই সেটা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে চালু করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইধরনের প্রজ্ঞাপনে আমরা তখন চরম হতাশ। শুধু আমরা নই বিএসসি ফিজিওথেরাপি এবং বিএসসি মেডিকেল ল্যাব টেকনোলজি শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকি। শুরু হয় আন্দোলন, ভাঙচুর এবং ইউনিভার্সিটি তে ডীন ও রেজিস্টার অফিস ঘেরাও কর্মসূচি।

আমরা তখন দিশেহারা হয়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাতে থাকি যেন আমাদেরকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে শিক্ষা কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখা হয়।
আমাদের মাঝে অনেকেই তখন ঝরে পড়ে অনিশ্চিত জীবন চিন্তা করে। অনেকেই বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয় এখানকার শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি করে ফেলে।
সরকারের মনোভাব এ পরিবর্তন আসতে থাকে। তারা বুঝতে পারেন যে আসলে আমরা দায়ী নই।
কিন্তু একটা কারিকুলাম দরকার , এমন একটা কারিকুলাম যেখানে সমন্বয় করে পড়ানো হবে দেশের প্রেক্ষাপটে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা অবস্থার গুরুত্ব টি বুঝতে পারেন। কিন্তু তাদের সামনে কোন কারিকুলাম না থাকায় তারা অনেকটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন।
তখন আমাদের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন তারা সিসিলা রড্রিক্স ম্যাডাম। বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী। তার পূর্ব কর্মস্থল ছিল RTM International বলে একটি এনজিও। তিনি তাদের কাছে নতুন কারিকুলাম তৈরি করার জন্য আর্থিক সাহায্য চাইলেন। RTM International তখন ম্যাডামের কথায় আশ্বস্ত হয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কে ১ লক্ষ টাকা দান করে Curriculum Workshop করার জন্য। সেখান থেকে পূর্বের কারিকুলামের অনেক কিছুই তখন রেখে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হয়। আর যেহেতু মন্ত্রনালয় সিদ্ধান্ত জারি করে যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কোর্স চালু করা যাবে না তাই আমাদেরকে অর্থাৎ বিএসসি নার্সিং বিএসসি ফিজিওথেরাপি এবং বিএসসি মেডিকেল টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট একত্রিত করে একটি কলেজ স্থাপন করা হয়। এবং সেই কলেজটি পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত হয়।

আমরা যখন স্টুডেন্ট ছিলাম তখনই শেষের দিকে জানতে পেরেছিলাম যে বাংলাদেশ সরকার ও বেসিক বিএসসি কোর্স চালু করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম 2008 সালে ঢাকা নার্সিং কলেজ, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বগুড়া এবং চট্টগ্রামে সরকারি কলেজ স্থাপন করা হয়। সরকারি কলেজের স্থাপন করার কথা আমরা ছাত্র অবস্থায় শুনতে পেরে অনেক খুশি হয়েছিলাম।

পাশ করার পরও আমরা অনেক বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়েছি। কোন হাসপাতাল আমাদেরকে নিতে চাইত না। তারা বলত যে নার্স মানেতো ডিপ্লোমা, বিএসসি আবার নার্স হয় নাকি।

বেসিক বিএসসি এর ইতিহাস বাংলাদেশের নার্সিং ইতিহাসে একটি সংগ্রামী অধ্যায়ের। বাংলাদেশের নার্সিং ইতিহাস লিখতে হলে বেসিক বিএসসি এর প্রকৃত ইতিহাস লিখতেই হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

লেখক: চৌধুরী আহসানুল হায়দার

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102