বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গত ১০ বছরে ৩২ হাজার নার্স নিয়োগঃ প্রধানমন্ত্রীকে স্বানাপের শুভেচ্ছা নতুন আট হাজার নার্স নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সাদেকের শুভেচ্ছা গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা

বাংলাদেশে নার্স গবেষক তৈরির প্রয়োজনীয়তা- চৌধুরী হায়দার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৪৪৩ Time View
{"subsource":"done_button","uid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593327289895","source":"other","origin":"gallery","source_sid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593593016743"}

চৌধুরী হায়দার: বাংলাদেশে নার্স গবেষক তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং উপায়: শিল্পসাহিত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান, অর্থনীতির ইত্যাদির ক্ষেত্রে গবেষণার কোন বিকল্প নেই। নার্সিং সাইন্সসে ও গবেষণার কোন বিকল্প নেই। কারণ প্রতিনিয়ত চিকিৎসা বিজ্ঞান পরিবর্তন হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে হলে আমাদের দরকার প্রচুর গবেষণা।

উন্নত দেশে যেখানে নার্সরা ক্লিনিক্যাল রিসার্চ করছেন সেখানে শুধুমাত্র Knowledge and practice দেখার জন্য ব্যতিব্যস্ত। আমাদের দেশে গবেষণার ক্ষেত্রটি অনেক সংকুচিত। ফলে দেশে নার্স গবেষকের সংখ্যা প্রত্যাশিত পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে না।এতে করে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণা ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:

১. নার্সদের গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য কলেজ অফ নার্সিং, মহাখালীতে Nursing Research Cell একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি জন্মের পর থেকেই রুগ্ন অবস্থায় আছে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করে নার্সদের গবেষণাকাজে লাগাতে হবে অতিসত্বর।

২. নতুন , উদ্যমী গবেষক তৈরীর জন্য ডিপ্লোমা নার্সিং এবং বেসিক বিএসসি নার্সিং এর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য গবেষণাটি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৩. গবেষণার জন্য অর্থ একটি বড় বাধা। গবেষণার কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কে অনুদান দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে ১৫ লক্ষ টাকার একটি তহবিল গঠন করা যেতে পারে। এই টাকা থেকে ৫ লক্ষ পাবে MSc Nursing শিক্ষার্থীরা, ৫ লক্ষ পাবে বিএসসি শিক্ষার্থীরা , ৫ লক্ষ পাবে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা।

৪. গবেষণার জন্য অনুদানের টাকা সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পাবে। এখানে শুধু সরকারিদের দিলে হবে না।

৫. কারা এই অনুদানের উপযুক্ত হবে সেটা DGNM একটা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিলেক্ট করে দিবেন। অবশ্যই বেসরকারি শিক্ষার্থীদের কে সমান সুযোগ দিতে হবে।

৬. শিক্ষকদের গবেষণা কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য আরো পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে। এই ৫ লক্ষ টাকা থেকে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গবেষণা কাজের জন্য অনুদান পাবেন।

৭. প্রত্যেকটা নার্সিং কলেজ এবং ইনস্টিটিউটে লিটারেচার রিভিউ করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন PUBMED, LANCET ইত্যাদির Password ক্রয় করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৮. প্রত্যেক স্তরের শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার কাজ সম্পন্ন করার পর একটি করে কপি রিসার্চ সেল এ প্রেরণ করবে যাতে করে পরবর্তী প্রজন্ম লিটারেচার রিভিউ করতে পারে আবার একই বিষয়ে গবেষণা প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

৯. অনুদানপ্রাপ্ত প্রত্যেকটি গবেষণাকর্ম নার্সিং এর নিজস্ব জার্নালে প্রকাশ করতে হবে। রিসার্চ সেল প্রতি বছর একটি করে জার্নাল প্রকাশ করবে।

৯. রিসার্চ সেল প্রতিবছরই গবেষণাকাজে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. প্রতিবছর একটি করে অন্তত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স আয়োজন করতে হবে। এসব ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স দেশ-বিদেশের নার্সিং এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িত গবেষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে আর নতুন গবেষকরা তাদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করবে।

সুপ্রিয় পাঠক, গবেষণার কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরো অগ্রসর হওয়ার জন্য আমরা যে যেখানে কাজ করি সেখান থেকে সবাইকে গবেষণার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।

একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি তাহার রোগীকে নিয়ে গবেষণা করবেন। একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের উপর টিচিং এর বিভিন্ন মেথডোলজি নিয়ে গবেষণা করবেন। আরে সমস্ত পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজন নার্সিং শিক্ষাস্তরের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সার্বিক সহায়তা প্রদান। তবেই আমরা ক্লিনিক্যাল নার্স রিসার্চার হতে পারব।

লেখক: চৌধুরী আহসানুল হায়দার

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102