শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা কক্সবাজারে ৮৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ বিএসএমএমইউ’তে গ্রাজুয়েট নার্সিং শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি অনুষ্ঠিত

নার্সিং অধিদপ্তর ভবন ও আমি- মাহমুদা পারভীন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
  • ২০৩৭ Time View
{"source_sid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593243067255","subsource":"done_button","uid":"3A71FD5F-1290-453B-986C-FDA783823F69_1593243067254","source":"other","origin":"unknown"}

বিডিনার্সিং২৪ রিপোর্টঃ আজকের সেবা অধিদপ্তর যখন পরিদপ্তর ছিল, তখন পরিদপ্তরের কোন নিজস্ব অফিস ছিল না। মতিঝিলের ইস্পাহানী ভবনের একটা ভাড়া অফিসে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলত। সারা দেশের নার্স ভাই বোনেরা দাপ্তরিক প্রয়োজনে সেবা পরিদপ্তরে এসে স্বস্তিতে দাঁড়ানোর জায়গাও পেত না।

২০১১ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নার্স সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি দেন। প্রধানমন্ত্রীকে নার্স সমাবেশে উপস্থিত থাকার সম্মতি পেতে আমার কতটুকু ভূমিকা ছিল সেটা আরেকটা স্ট্যাটাসে উল্লেখ করব। নার্স সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নার্সদের জন্য মহাখালীতে একটি ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন।

সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক, ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মহাখালী Infectious disease hospital এর পাশের জায়গা। কিন্তু জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে মন্ত্রণালয় হতে বারবার চিঠি ফেরত আসে। যেমন যে জমিতে ভবন হবে তার সি.এস, আর.এস ও মহানগর দাগ নাম্বার , খতিয়ানের কপি , ও নক্সা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সঠিক কাগজ পত্র খুঁজে পাচ্ছেন না। মন্ত্রণালয় হতে বারবার চিঠি ফেরত আসে। ঢাকার ডিসি অফিসে খতিয়ান ও নক্সার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ডিসি অফিস থেকে জবাব আসে “দাগ ও খতিয়ান নাম্বার নির্দিস্টভাবে উল্লেখ করুন।” ( এরূপ চিঠির কপি এখনও আমার কাছে আছে।) ইতোমধ্যে তিনটি বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ২০১৪ সাল। সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক তখন তসলিমা ম্যাডাম। যখন সমস্ত চেষ্টা শেষ, কাগজপত্রের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না , তখন ইসমত আরা আপা তসলিমা ম্যাডামকে জানালেন মিটফোর্ডের মাহমুদাকে দায়িত্ব দেন, একমাত্র সেই পারবে সঠিক কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। সাথে সাথে তসলিমা ম্যাডাম আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে নেন। তাছলিমা ম্যাডাম আমাকে বিস্তারিত বলে কাগজপত্র সংগ্রহ করে দেয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন ” মাহমুদা তুমিই একমাত্র শেষ ভরসা।”
মন্ত্রণালয় ও ডিসি অফিস হতে ফেরত চিঠির কপি আনোয়ার ভাই (ডিএনএস অফিসে প্রেষনে কর্মরত ছিলেন) আমার হাতে দিলেন।

সেই চিঠির কপি হাতে নিয়ে নেমে পরলাম কাজে। নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করলাম। তথ্য পেলাম এখানে কোন এক সময়ে ঘোড়ার ঘর ছিল। ঘোড়ার ঘর সূত্র ধরে অগ্রসর হলাম। প্রথমে গেলাম তেজগাঁও ভূমি অফিসে। জমির কাগজ পেতে হলে দাগ ও খতিয়ান নাম্বার জানা অত্যাবশ্যক। ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির নেতাদের সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ৭ দিন এই অফিসে কাজ করে দাগ ও খতিয়ান নাম্বার পেলাম। দাগ ও খতিয়ান নাম্বার উল্লেখ করে ডিসি অফিসে পর্চার জন্য দরখাস্ত করলাম। দালালের মাধ্যমে অফিস manage করে পর্চা পেলাম। অনুরূপভাবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর হতে ম্যাপ/নক্সা পেলাম। আমার বেতন থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করলাম।

প্রত্যেকটা কাগজপত্রের ফটোকপি করলাম। বড় বড় ম্যাপ ফটোকপি করার জন্য দৈনিক বাংলা মোড়ে যেতে হয়েছিল। এক সেট তসলিমা ম্যাডামকে দিলাম ও অন্য সেট ভবিষ্যত প্রয়োজনের জন্য আমার কাছে রেখে দিলাম। প্রত্যেকটা কাগজের এক কোণায় আমার Initial দেয়া আছে। কারো সন্দেহ হলে আমার সাথে যোগাযোগ করে দেখে নিতে পারেন , অফিসের ফাইলেতো পাবেনই।

ডিএনএস তসলিমা ম্যাডাম আবেগে আপ্লুত হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন ” মাহমুদা এই সেবা ভবনে তোমার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।” সেখানে সালমা ম্যাডাম, সুরাইয়া ম্যাডাম, লুৎফা ম্যাডামসহ অফিসের আনেক স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এখনও জীবিত আছেন। অনেকেই তখন আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে আমি নিজে গিয়ে মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দেই। কিন্তু আমি তসলিমা ম্যাডামের হাতেই কাগজপত্র জমা দিয়েছি।

সেই কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হল। অর্থ বরাদ্দ হল, যথারীতি নক্সা অনুমোদন হল। ভবন নির্মাণ হল। সেই ভবন উদ্বোধনও হল। আমি জানতেও পারলাম না। অথচ তাছলিমা ম্যাডাম আমাকে কথা দিয়েছিলেন ভবনের কোন এক কোণায় আমার নামটা লেখা থাকবে।

কাজ করার সামর্থ থাকলে পদ পদোন্নতির দরকার হয় না। যে কোন পদে থেকেই কাজ করা যায়। পরবর্তীতে সেবা পরিদপ্তর হল সেবা অধিদপ্তর। বড় বড় স্যারেরা পোস্টিং নিয়ে আসলেন। তারা কেউ কেউ ভাল কাজ করেছেন সন্দেহ নাই। কিন্তু কাজ যতটা করছেন প্রচার করছেন তার চেয়ে বেশি। আবার নার্স সমাজ তাদের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। কিন্তু আমি যে কাজটা করে এসেছি কোন মানদন্ডেই সেটা ছোট করে দেখার অবকাশ নাই।

মাহমুদা পারভীন
সাধারণ সম্পাদক
বিএনএ
মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102