সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় মৃত্যুবরণ করা এক যুবকের শেষ কথাগুলো গত ১০ বছরে ৩২ হাজার নার্স নিয়োগঃ প্রধানমন্ত্রীকে স্বানাপের শুভেচ্ছা নতুন আট হাজার নার্স নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সাদেকের শুভেচ্ছা গ্রাজুয়েট নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস চিকিৎসক, নার্স সহ শীঘ্রই ২০ হাজার নিয়োগ আসছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দারিদ্র ও মেধাবীদের লোনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। রাজধানীর দুই নার্সিং শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো সিলেট ওসমানী বিএনএ বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা মান্ধাতার আমলেরঃ চট্টগ্রাম মেডিকেলের সাবেক অধ্যক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে বললেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ প্রশিক্ষণ চালু রাখায় ওসমানী বিএনএ’র কৃতজ্ঞতা

করোনাকালে নার্সিং শিক্ষার্থীদের করণীয় এবং প্রফেশনের উন্নতিতে সকলের করণীয় ‘ নিয়ে কি ভাবছেন বারডেম নার্সিং কলেজ এর সাবেক শিক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ৪৮১ Time View

👤মোঃ আমিনুল ইসলাম অনিক,
বারডেম নার্সিং কলেজ।
মেম্বার অফ সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটি,bdnursing24
🕑২৬.০৭.২০২০ইং

ক্ষুদ্র একটি অনুজীব পুরো পৃথিবীকে যেন নিঃস্তব্ধ করে ফেলেছে। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশেও সংক্রমনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে কেমন কাটছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বারডেম নার্সিং কলেজ এর সাবেক শিক্ষার্থীদের দিনকাল।

তাদের কাছে প্রশ্ন ছিল আপনাদের দিনকাল কেমন কাটছে, অনলাইন ক্লাস নিয়ে তাদের মতামত, এমতাবস্থায় জুনিয়রদের কি করা উচিৎ, বন্ধুত্বের বর্তমান অবস্থা এবং নার্সিং পেশার উন্নয়ন এর স্বার্থে সকলের কি করা উচিৎ । এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন বারডেম নার্সিং কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা। চলুন তাদের মতামত জেনে নেওয়া যাক….

জাহিদ হাসান
সিনিয়র স্টাফ নার্স, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল
বারডেম নার্সিং কলেজ, ১ম ব্যাচ
বেসিক বি.এস.সি, ৭ম ব্যাচ (ঢা.বি)

আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। চাকুরী আর পরিবার এর সদস্যদের নিয়ে দিনকাল বেশ ভালোই কাটছে। বর্তমানের এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের উচিৎ হবে যে বিষয়গুলোতে তোমরা দুর্বল এবং মনে রাখা কষ্টকর সেগুলোতে ফোকাস করা। অবশ্যই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে পড়তে চেষ্টা করবে এবং তোমার টপিক এর সাথে পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোর যোগাযোগ স্থাপন করে পড়তে চেষ্টা করবে। কোনো বিষয় এ পড়তে হলে শুধু টেক্সটবুকেই সীমাবদ্ধ না থেকে চেষ্টা করবে ইউটিউব, গুগল থেকেও জ্ঞান আহরণ করতে যেটা কিনা আমি ছাত্রাবস্থায় করেছি। বর্তমানের অনলাইন ক্লাস নিয়ে বলতে গেলে বলবো যে এ ক্লাসের যেমন সুবিধা আছে ঠিক তেমনি কিছু অসুবিধাও আছে। সুবিধাগুলো হচ্ছে.. প্রথমত তুমি যদি সুস্থ থাকো তবে তুমি সহজেই তোমার শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবা এবং নিজের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে। তুমি নিজ ঘরে আরম আয়েশ করে শিক্ষকদের নিকট হতে আপডেটেড বিষয়গুলো সম্পর্কে শিখতে পারছো। এছাড়া তোমার কলেজে উপস্থিত হওয়ার জন্য কোনো তাড়া কাজ করছে না এখন। তাই অনেকটা প্রশান্তির মতোই ক্লাস করতে পারছো। সাথে সাথে তোমার পরিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটাও সহজ হয়ে যাচ্ছে। আর কলেজের প্রশাসনিক খবরগুলোও তুমি সহজে পেয়ে যাচ্ছো।

অসুবিধাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তুমি কোনো ধরনের ব্যাবহারিক ক্লাস করতে পারছো না যেটা কিনা একজন নার্সিং শিক্ষার্থীর জন্য অতীব প্রয়োজন। এছাড়া তুমি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বন্ধুর সাথে অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করতে পারছো না। আর অনেকেই হয়তো প্রচুর পরিমানে নেটওয়ার্ক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছো যা কিনা তোমাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে যেমন ক্লাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্কিপ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তোমরা এখন অতি সহজেই হোম টাস্কগুলো করা ছেড়ে দিচ্ছো, অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকে কারণ এখন তোমাকে শাস্তি দেওয়ার কেউ নাই। এভাবেও কিন্তু একপ্রকার তোমরা নিজেকে ফাকি দিচ্ছো এবং তোমাদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে।

এখন বন্ধুত্বের সম্পর্কে যদি বলতে হয় তবে বলবো যে.. ভালো বন্ধুত্ত্বের মাঝে দুরত্ব কোনো বাধা নয়। হ্যা এটা কষ্টকর যে হয়তো একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া হচ্ছে না। তবে আমার মতে যদি বন্ধুদের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকে তবে এটা বন্ধুত্বের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
এখন আসি প্রফেশন এর উন্নতির বিষয়ে। প্রফেশনের উন্নতির জন্য আমাদের দুটি মাধ্যমের উন্নতি অতীব জরুরী। একটি হলো শিক্ষা আর অন্যটি চাকুরির মাধ্যম।

শিক্ষার উন্নতির জন্য প্রয়োজন..

১.নার্সিং বিষয়ে পর্যাপ্ত উচ্চ শিক্ষার সুযোগ প্রদান। এক্ষেত্রে যেমন তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রয়োজন ঠিক তেমনি ব্যাবহারিক জ্ঞানেরও বিকল্প নেই।
২.শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি যেমন ল্যাবের অবকাঠামো, অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। শিক্ষাবস্থায় আমাদের যথাযথ ফিল্ড প্র‍্যাক্টিসের সুযোগ প্রয়োজন । ৩.আমাদের ওসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা প্রয়োজন যেখান থেকে কিনা আমরা আমাদের পড়ালেখা সম্পর্কিত জ্ঞান আহরণ করা সহজ হবে।
৪. ক্লিনিক্যাল প্র‍্যাক্টিস এর সময় শুধু আমাদের প্রেজেন্টেন্স এর জন্য আমাদের শিক্ষকগণ আমাদেরকে মনিটরিং করেন কিন্তু প্রকৃত ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়।ডাক্তাররা যেমন শিক্ষানবিশ অবস্থা থেকেই রোগীর বেড সাইডে গিয়ে জ্ঞান আহরণ করেন ঠিক তেমনি আমাদের শিক্ষকদেরও উচিত শিক্ষার্থীদেরকে রোগীর বেড সাইডে নিয়ে গিয়ে পাঠ দেওয়া।
৫. আমাদের শিক্ষার্থী সংগঠন প্রয়োজন যার কল্যাণে আমরা একটা প্ল্যাটফর্মে সকলের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবো
৬. শিক্ষার্থীদের মাঝে দক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজন ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
৭. পড়ালেখা শেষে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যোগদানের মাধ্যমে আমাদের নার্সিং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে সাহায্য করতে হবে।
৮. আমাদের বি.এস.সি ইন নার্সিং এর উন্নতির জন্য নতুন কারিকুলাম পরিবর্তন করে পুর্বের কারিকুলাম এর বাস্তবায়ন অতীব জরুরী।

এছাড়াও চাকুরী ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য..

১. নার্সদের উচ্চ শিক্ষা প্রদান করা
২. বিশেষায়িত নার্স তৈরি করা প্রয়োজন
৩. বিশেষায়িত নার্সদের জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
৪. উপযুক্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউটে শিক্ষক নিয়োগ করা উচিৎ।
৫. আমাদেরকে ব্রাদার/সিস্টার বলে সম্বোধন করার রীতিটা পরিবর্তন করতে হবে। এর স্থলে আমাদেরকে নার্স বলে পরিচয় দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।আমাদের কলিগ ও সিনিয়রদের ভাইয়া / আপু বলে সম্বোধন করতে হবে। আর যারা ইনচার্জ এবং আরো উপরের পদে আছেন তাদেরকে আমরা স্যার/ম্যাডাম বলে সম্বোধন করবো ফলে আমাদের নার্সিং এর ইমেজ বৃদ্ধি পাবে।

সর্বোপরি নার্সিং এ প্রফেশনাল বিসিএস এখন সময়ের দাবি। প্রফেশনাল বিসিএস হলে আমরা নিজেরাই নিজেদের অধিদপ্তর চালাতে সক্ষম হবো। ফলে নিজেরা নিজেদের ভালো মন্দ সম্পর্কে বুঝতে সহজ হবে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাডাররা আমাদের অধিদপ্তরের ক্ষমতায় আসীন ফলে কারিগরি নার্সিং এর মতো কোর্স চালু হয়েছে যা কিনা নার্সিং সেক্টরের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আমাদের এটা নিয়ে ভাবতে হবে এবং এই অধিকার আদায় করা প্রয়োজন। আর এজন্য একতাবদ্ধ হওয়া অতীব জরুরী।
সবশেষে বলবো সবাই ভালো থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন, ধন্যবাদ।

মেহেরুবা জেরিন নীলা
সিনিয়র স্টাফ নার্স,বারডেম জেনারেল হাসপাতাল।
বারডেম নার্সিং কলেজ,২য় ব্যাচ
বেসিক বি.এস.সি ইন নার্সিং ৮ম ব্যাচ

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। পরিবার আর চাকুরী নিয়ে বেশ ভালোই সময় কাটছে। জুনিয়রদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছস শুনে আনন্দিত হলাম। অনলাইন ক্লাসের সুবিধা অসুবিধা দুটোই আছে। সুবিধা হলো বর্তমানে টপিকগুলো সম্পর্কে নুন্যতম একটু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এমন অনেক টপিকই আছে যেগুলো অনলাইনে দেখেও বোঝা যায় না অন্তত বেসিক কিছু টপিক সম্পর্কে এখন শিক্ষার্থীরা ধারণা পাচ্ছে। আর অসুবিধা হলো সবাই তো ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। সাথে তো নেটওয়ার্ক সমস্যা আছেই। এখানে গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্ট করাও কষ্টকর। সবার সাথে যেহেতু সবার সাক্ষাৎ হচ্ছে না তাই কমিউনিকেশন গ্যাপটা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু ইন্টারনেটের এ যুগে সবাই সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বর্তামানে দুরত্ব স্পষ্ট। শিক্ষকেরা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে পারছেন না যেমন কোনো শিক্ষার্থী পড়া কতটুকু বুঝলো, তাদের ফিডব্যাক কি ইত্যাদি।

শিক্ষকরা এখন ক্লাস টেস্ট নিতে পারছেন না ফলে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারছেন না। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও সাবলীলভাবে প্রশ্ন করতে পারছে না। ফলে তাদের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুনিয়রদেরকে বলবো উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এখন ভাবা উচিৎ নয়।আগে নিজের কোর্সটা সফলভাবে শেষ করতে হবে। কিন্তু তোমাকে একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী পড়াশোনা করে যেতে হবে।আর সেজন্য অবশ্যই বিএসসি কোর্স এ ভালো করতে হবে।
সবার সুস্থতা কামনা করি।

ইফরাজ জাহান মুন্না
সাংগঠনিক সম্পাদক, SBGSN
বারডেম নার্সিং কলেজ, ৩য় ব্যাচ
বেসিক বি.এস.সি ইন নার্সিং, ৯ম ব্যাচ (ঢা.বি)

জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। স্বাভাবিকভাবে অামাদের মার্চ মাসে এক্সাম শেষ হয়ে জুন মাসের মধ্যে রেজাল্ট পাবলিশড হয়ে যায়। তারপর ইন্টার্নশীপ হয় এবং এরমধ্যেই লাইসেন্স এক্সাম সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশেও এর সংক্রমনের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা হয়। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে বারডেম নার্সিং কলেজ, ঢাকা নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন নার্সিং কলেজে শিক্ষার্থীদের এক্সাম সাধারন ছুটির অাগে নিতে পারলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কারনে মায়মানসিংহ নার্সিং কলেজ, স্টেট কলেজ অব হেলথ সাইন্স সহ অনেক কলেজ তাদের চলমান OSPE এক্সাম গুলো স্থগিত করে দেয় এবং কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে। এই অবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রামনের জন্য দীর্ঘ দিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নার্সিং কলেজগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের রেজাল্ট, ইন্টার্ন ও লাইসেন্স এক্সাম সবই পিছিয়ে যাচ্ছে, একই সাথে অামাদের সেশনজট নামক অভিশাপের আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন আক্রান্ত এর সংখ্যা যেভাবে বেড়েই চলেছে এই অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খোলাও সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কালীন এ সময়ে বাসায় থেকে নানা রকম আতঙ্কের মধ্যে সময় অতিবাহিত করছি।
অন্যদিকে করোনাকালীন এই সময়টা বাসায় পরিবারের সাথে থাকাতেই পরিবারের সবাইকে সময় দিতে পারছি। এই প্রথম এতটা দীর্ঘ সময় বাসায় কাটাচ্ছি এবং বেশিরভাগ সময়ই ফোন অথবা ল্যাপটপের স্ক্রীনেই কাটে গেইমিং করা অথবা স্যোসাল মিডিয়াতে থাকার মাধ্যমে। বন্ধুদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি যোগাযোগ হচ্ছে। এছাড়াও বাসায় বসে নিয়মিত সালাত অাদায় করতে পারছি যা অনেকটা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।মানুষ গড়ার প্রত্রিয়া হিসাবে জ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই। একটা সময় ছিলো যখন মানুষ ডিপ্লোমা অথবা বিএসসি ইন নার্সিং কমপ্লিট করেই শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে জব সেক্টরে ঢুকে যেতো কিন্তু সময় পরিবর্তন হয়েছে, বেড়েছে প্রতিযোগিতা। এখন নার্সিং শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা অথবা বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স করেই বসে নেই, তারা কর্মক্ষেত্রে থেকেই এমপিএইচ, এমএসসি ইন নার্সিং এবং নার্সিংয়ের স্পেসিয়ালািজড কোর্স গুলে করে যাচ্ছে। অনেক সিনিয়র বড়ভাইদের ইচ্ছা দেশ অথবা দেশের বাহির থেকে এমফিল অথবা শিক্ষা জীবনের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পিএইচডি সম্পন্ন করা। অামার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং অাল্লাহ বাচিয়ে রাখলে অামিও অামার কর্মক্ষেত্রে থেকে তার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।একসময় মনে হতো কবে শেষ হবে এই বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স, কবে একটা লম্বা ছুটি পাবো অার সবার সাথে অনেক অাড্ডা দিবো, ট্যুরে যাবো। কিন্তু এখন যখন কোর্স শেষ হলো তখন যেনো মনে হচ্ছে ক্যাম্পাসের সেই ব্যস্তময় জীবনই খুব বেশি মধুর ছিল। দীর্ঘ চার বছরের ফেলে অাশা নানান স্মৃতি এখন খুবই মনে পড়ছে। বারবারই ছুটে যেতে ইচ্ছে করো সেই প্রানের ক্যাম্পাসে, মনে পড়ে শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকাদের কথা। কিন্তু এমম সময়ে বাসায় থেকে বের হওয়াটা মোটেই ঠিক নয় তাই শিক্ষিকাদের সাথে মাঝে মাঝেই ফোনালাপ হয় যে করোনার এমন সময়ে তারা তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্যামন অাছেন, কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন, তারাও অামার সাহস প মনোবল অটুট রাখার জন্য বিভিন্ন অাশার বানী ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।ক্যাম্পাসে কাটানো প্রতিটি মূহুর্তই এখন স্মরনীয়। এখানে এটা করেছিলাম, ওখানে ওটা.. এখানে বসে এভাবে আড্ডা দেওয়া হতো..কতো হাসি তামাশা করা হতো সবাই মিলে, এখানে তো আর হাসি তামাশা হবে না…. ছোট খাটো মান অভিমান হবে না…. কেউ কাউকে পচাতে পারবে না…
কাউকে বলা হবে না ট্রিট দে…. ক্লাশের ফাকে কোনো গানের আসর বসবে না……বসবে না কোনো চায়ের দোকানে সেই গল্পের আসর, কিন্তুু কলেজের সবাইকে নিয়ে সবথেকে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে ফেয়ারওয়েলের দিনটি। শিক্ষিকা ও জুনিয়র ভাই বোনগুলোর চোখে অামাদের ব্যাচের প্রতি এমন ভালোবাসা অার কখনো দেখিনি।জুনিয়রদের উদ্দেশ্য বলবো আপাদত এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সময়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে ভালো সময় কাটাও, মা বাবাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য সহযোগিতা করো, নামাজ রোযা করো, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলো, বাসায় থাকো এবং বাসায় বয়োজ্যেষ্ঠগনদের সেবা করো মা-বাবার সেবা করো।
পাশাপাশি পড়ালেখাটাও চালিয়ে যাও, দরকার হলে বড় ভাইয়া আপুদের হেল্প নাও।

এখন শুধু ভাবি কবে পৃথিবীটা সুস্থ হবে আর মুক্ত বিহঙ্গের মতো দিগ্বিদিক ছুটে চলতে পারবো। আর এখন এই অপেক্ষাতেই আছি। দ্রুত পৃথিবীটা সুস্থ হয়ে উঠুক, জীবন যাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠুক এই কামনা করি।
আশা করি খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতি থেকে দেশ তথা বিশ্ব তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102