শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ০৫:১২ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের নার্স হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে প্রতিবাদ সভা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৭৫১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের নার্স হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে প্রতিবাদ সভা

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের নার্স হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাদের মিডওয়াইফ বানানোর চক্রান্তের প্রতিবাদে নার্স মিডওয়াইফ সম্মিলিত পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে।এতে নার্সেস সংগ্রাম পরিষদ,বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মিডওয়াইফারী সোসাইটি কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সহ কক্সবাজার জেলার সরকারি -বেসরকারি প্রায় কয়েকশ নার্স কালোব্যাজ পরিধান করে অংশগ্রহণ করেন।কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন নার্সিং পেশার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তর, দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় নিয়োগদান সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হয়েছে। বাংলাদেশের নার্সরা চিরঋণী থাকবে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু নার্সিং পেশায় মানোন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছিলেন এবং এ পেশায় যোগ্য ও মেধাবীরা আসতে পারে সে কথাও বলেছিলেন। নিতান্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, সেই নার্সিং পেশাকে নিয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র নেমেছে তারা কিছু ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অধিভুক্ত পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের নার্স হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন এবং পরিবার কল্যান পরিদর্শিকাকে মিডওয়াইফ বানানোর পাঁয়তারা করছেন।
দেশের স্বাস্থ্যখাত যখন বিশ্ব মাঝে রোল মডেল হয়েছে,করোনা সংকটে এ দেশের নার্সরা নিজ জীবনবাজি রেখে করোনা রোগীর সেবা দিয়েছেন অনেকের আত্মত্যাগ হয়েছে। করোনা ভেকসিন কার্যক্রমে নার্সরা নিবেদিত প্রাণে কাজ করে চলেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তত্ত্বাবধানে মিডওয়াইফরা মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হার কমিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করেছে।
তখনই এই দুষ্টচক্রটি স্বাস্থ্য সেবায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জন ম্লান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
বক্তারা বলেন,
★ স্বল্প মেয়াদি এবং ভুঁইফোঁড়ের মত গজে উঠা ক্লিনিক্যাল প্রাকটিস বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নেওয়া এসব পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের দিয়ে নার্সিং সেবা প্রদান করতে চাওয়াটা জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হবে।
★ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকাদের মিডওয়াইফ বানানোর চেষ্টা করা হলে সেক্ষেত্রে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

কারিগরি বোর্ডের ‘ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি’ কোর্সের শিক্ষার্থীরা কেন রেজিস্ট্রেশন অথবা লাইসেন্স পাবে না?
১. আইনগত জটিলতাঃ
বাংলাদেশ না নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের আইনের আওতায় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে এই কাউন্সিলের অনুমোদিত কারিকুলাম অধ্যয়ন শেষে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন নার্স রেজিস্ট্রেশন পেতে পারে।’ এর বাইরে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কোর্সকে নার্সিং কাউন্সিল স্বীকৃতি দিতে পারে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠান সংবিধিবদ্ধ আইনের অধীন।’

২. পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্নঃ
.নার্সিং কোর্স পড়াতে হলে হাসপাতালের প্রয়োজন। তিন বছরের ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে একজন শিক্ষার্থীকে মোট পাঁচ হাজার ৬৪ ঘণ্টা খাটতে হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ৮৮ ঘণ্টা থিওরি পড়তে হয়। ৫২৮ ঘণ্টা ল্যাবরেটরিতে সময় ব্যয় করতে হয় এবং অবশিষ্ট দুই হাজার ৪৮৮ ঘণ্টা ব্যয় করতে হয় হাসপাতালে রোগীর সাথে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কোনো হাসপাতাল ওয়ার্ক নেই। একজন নার্স চিকিৎসকের পরই রোগীর জন্য অপরিহার্য। যথাযথ ব্যবহারিক শিক্ষা নিতে না পারলে ওই নার্সের অধীন রোগীতো সুস্থ হবেই না বরং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। কোনো অভিভাবকই চাইবেন না তার স্বজনরা অদক্ষ নার্সের হাতে পড়ে মারা যাক। আইনের মাধ্যমে গঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল হাসপাতালের অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো নার্সকে রেজিস্ট্রেশন দিতে পারে না।

৩. ক্লিনিক্যাল প্রাকটিস বিহীন পড়াশোনা ঃ
২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী ২০ জন নার্সিং শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। যাদের হাসপাতাল রয়েছে তাদেরকে নার্সিং কাউন্সিল নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিয়ে থাকে আবেদন সাপেক্ষে । কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন। হাসপাতাল ছাড়া এবং যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো কোর্সের অনুমোদন দেয়া উচিত নয়।

নার্সদের দাবীসমূহ ঃ
১। কারিগরি বের্ডের প্যাশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদেরকে কোনভাবেই বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারী কাউন্সিল (বিএনএমসি) হতে পেশাগত লাইসেন্স/রেজিস্ট্রেশন দেওয়া যাবেনা।
২।ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরদের (FWV) মিডওয়াইফ বানানোর পায়াতারা বন্ধ করতে হবে।
৩। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাচেলর অব নার্সিং সায়েন্স, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ছাত্র-ছাত্রীদের নির্ধারিত কম্প্রিহেনসিভ লাইসেন্সিং পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে কম্প্রিহেনসিভ লাইসেন্স পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলাশাখার সভাপতি দৌলতুন্নেছা, নার্স ও মিডওয়াইফ সম্মিলিত পরিষদের আহ্বায়ক কানেতা আক্তার সদস্য সচিব নিশী চৌধুরী নার্সেস সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন সদস্যসচিব দীলিপ কুমার নাথ স্বানাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সহ অনেকে।
সভায় বক্তারা সমাধান কল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট বাস্তবায়নের দাবী জানান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102